আফটার লাইফ

বেশ আশা নিয়েই পড়তে বসেছিলাম, আশাহত হয়েছি বললে ভুল হবে না।

গুরনাহ’র “আফটার লাইফ” বা “উত্তর জীবন” দীর্ঘকাল ঔপনিবেশিক শাসনে থাকা আফ্রিকা মহাদেশের পরাধীন জনসত্তার করুণ প্রতিনিধি। বিষয়বস্তুর বিচারে বেশ আগ্রহোদ্দীপক। আগ্রহটা ছিলও তেমন। কিন্তু বর্ণনাভঙ্গিটা আমার অভ্যাসের সাথে একেবারেই যায় নি।

সাহিত্যে একটা কথা আছে, show, don’t tell. কিন্তু এ উপন্যাসের জন্য গুরনাহ বেছে নিয়েছেন Tell, don’t show ভঙ্গি। তাই উপন্যাস পড়তে যেয়ে বারবার মনে হচ্ছিলো যেন কোন ইতিহাস গ্রন্থ পড়ে যাচ্ছি। প্রায় তিন প্রজন্মের বিশাল একটা টাইম ফ্রেমের গল্প বলেছেন লেখক, কিন্তু চরিত্র হাতে গোনা চার-ছয়টা, ঔপনিবেশিক শাসনের ছোঁয়া সরাসরি যাদের মধ্যে পেয়েছে কেবল দুইজন। ফলে তার মিথস্ক্রিয়াটা খুব একটা স্পষ্টও নয়।

অবশ্য মাঝের দুইশো পেইজ পড়তে বেশ ভালোই লাগছিলো, যখন গল্পটা আফিয়া আর হামজা কেন্দ্রিক ছিল। কিন্তু প্রথম একশ পেইজ আর শেষ একশ পেইজ মনে হচ্ছিলো ধারাবর্ণনা শুনছি কোন।

অনুবাদ নিয়ে অভিযোগের যায়গা নেই অবশ্য। বরং তরুণ অনুবাদক আমিরুল আবেদিনের এতটা সহজ, প্রাঞ্জল অনুবাদের গুণেই এত সহজে বইটা পড়ে শেষ করা গিয়েছে।

বেঙ্গল বুকসের প্রোডাকশনের কথাও না বলা অন্যায় হবে৷ পেপারব্যাকে এরচে চমৎকার প্রোডাকশন বোধহয় বাংলায় সম্ভব নয়৷ আর ৪০০ পেইজের বইটা পেপারব্যাকে আনায় দামটাও রয়ে গেছে হাতের নাগালেই। তাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকুক, এই কামনা

Leave a Comment

Your email address will not be published.

0

TOP

X